আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৯ আগস্ট): সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।

একই সঙ্গে তিনি দলের সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চেয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় এ সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা এ সভা চলে।

সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানকে। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিএনপিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলেও দলীয় সংসদ সদস্যদের জানান তিনি।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানা যায়।

পরে সভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’

তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য–এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে হাল ধরেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। এ সময় তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব বাড়তে দেওয়া যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নির্বাচনটি চ্যালেঞ্জিং হবে। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী না হন, সে বিষয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধরে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফল করতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমমনা দলগুলোর সমর্থন যাতে ভোটের দিন পর্যন্ত অটুট থাকে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ভোটের দিন কোনো সংসদ সদস্য যাতে অনুপস্থিত না থাকেন, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ