মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে চায় ছয়টির বেশি দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩ অক্টোবর): পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বিশ্বের ছয়টিরও বেশি দেশ বর্তমান সময়ের আলোচিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার জন্য জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। ইসহাক দার পরিষ্কার করে জানান যে, এই জোটটি সম্পূর্ণভাবে রক্ষণাত্মক বা প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর কোনো সদস্য দেশের ওপর অন্য কারও বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর বিন্দুমাত্র কোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছা নেই।
এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠিত হয়। পবিত্র মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নতুন করে আগ্রহ প্রকাশকারী দেশগুলোর নাম জানতে চাওয়া হলেও, পাকিস্তানের মন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলেই মূলত এই মক্কা জোটটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর যদি কোনো সশস্ত্র সামরিক হামলা হয়, তবে তা জোটের প্রতিটি সদস্যের ওপর সংঘটিত হামলা বলে গণ্য করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার আরও জানান যে, এই ঐতিহাসিক মক্কা চুক্তির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ৩১ আগস্ট। কৌশলগত কারণে এই জোটের প্রধান কার্যালয় বা সদরদপ্তর স্থাপন করা হবে সৌদি আরবে। পাশাপাশি, এই জোটে প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে। সেনাবাহিনীর এই সাবেক কর্মকর্তাকে একজন ‘অত্যন্ত দক্ষ এবং ধার্মিক কর্মকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মন্ত্রী।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হামলা বা নিরাপত্তা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহেই জোটটির একটি জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সৌদির সর্বশেষ সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এ সময় তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, “আমরা যেকোনো মূল্যে সৌদি আরবকে রক্ষায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এছাড়া তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘের সনদের বিধান অনুযায়ীও এ ধরনের যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠন এবং সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পূর্ণ বৈধতা রয়েছে। সূত্র: জিও টিভি
মনোয়ারুল হক/
