শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ অক্টোবর): শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের সামনে সে সময় আর বিশেষ কোনো বিকল্প ছিল না এবং ভারতীয় বিমান বা স্থলবাহিনী তাকে দেশে নিয়ে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শনিবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের দাবি প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও জানান, ভারত সরকার বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে একটি সুশৃঙ্খল ও প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিষয়টি এগোচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে বহাল রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে হঠাৎ নাটকীয় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছেড়ে শেখ হাসিনার ভারতে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ত্রিবেদী জানান, ওই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি।

ইতিহাসের সেই মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনী নিজে থেকে তাকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া মর্মান্তিক ও আকস্মিক পরিস্থিতির কারণেই সেটির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বের কোথাও যেন ভবিষ্যতে এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

হাইকমিশনারের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনা যখন ভারতে অবতরণ করেন, তখনো তিনি সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লির ওপর সেই জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘সে সময় আমি টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখছিলাম যে তিনি সম্ভবত অন্য কোনো দেশের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন।’

ত্রিবেদী আরও যোগ করেন, ‘সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল ছিলেন। তাই সে সময় আমাদের খুব বেশি বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না, বিশেষ করে এমন সব সংকটের ক্ষেত্রে যখন আপনি আগে থেকে প্রস্তুত থাকেন না।’

সেদিনের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভারতের সামনে সে সময় আর কীইবা বিকল্প ছিল? যদি ভারত সরকার বলত যে তাকে গ্রহণ করা হবে না এবং বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হবে না, তবে সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বর্তমান আইনি ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ভারতের বিচার বিভাগ অত্যন্ত কার্যকর এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অনুরোধটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনেশ ত্রিবেদীর মতে, বাংলাদেশের মতোই ভারতের রয়েছে একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের নিয়মে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পটপরিবর্তনের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশনের অনুরোধ জানিয়েছে। সম্প্রতি আগস্ট মাসে ঢাকায় হাইকমিশনার ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয় যে, প্রচলিত আইনি বিধিবিধান ও প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনেই ঢাকার অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ