এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সংস্থা হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

আইটি ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৯ সেপ্টেম্বর): সাইবার নিরাপত্তার কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি বিশেষ পরীক্ষার সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষিত নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘জেমিনাই’-এর মাধ্যমে। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুগলের নিজস্ব কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার নিজ দায়িত্বে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’-এর পরিচালনায় গত মে মাসে এই মূল্যায়ন পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুসারে, পরীক্ষামূলক ওই কার্যক্রমে জেমিনাই তিনটি ভিন্ন সুরক্ষিত সিস্টেমে সফলভাবে প্রবেশ করতে পেরেছিল। এর মধ্যে একটি ক্ষেত্রে সঠিক পাসওয়ার্ডটি কী হতে পারে তা বারবার আন্দাজ করার মাধ্যমে একপর্যায়ে সফলভাবে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি বাগিয়ে নেয় জেমিনাই।

বাকি দুটি ক্ষেত্রে মডেলটি একটি উন্মুক্ত ডেটাবেইস বা পাবলিক রিপোজিটরি থেকে প্রয়োজনীয় ক্রেডেনশিয়াল বা ব্যবহারকারী নামের তথ্য ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে এবং তা কাজে লাগিয়ে সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

ইরেগুলার জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা কেবল গুগলের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারের বেলাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ইরেগুলারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যেসব দুর্বলতা বা ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, তার প্রতিটিই বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।’

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরেগুলারের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া এই পরীক্ষায় মেটা, অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই-এর মতো বিশ্বের নামী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই মডেলেও অনুরূপ ঘটনার নজির পাওয়া গেছে।

তবে গত আগস্ট মাসে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, তাদের ক্ষেত্রে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা কোনো অত্যন্ত জটিল বা গুরুতর সাইবার আক্রমণ ছিল না এবং তাদের এআই ব্যবস্থাটি নির্ধারিত সীমার (স্যান্ডবক্স) বাইরে চলে যায়নি। অন্যদিকে ইরেগুলার উল্লেখ করেছে যে, নিরাপদ উপায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন পরিচালনার উদ্দেশ্যে তারা সর্বোত্তম নীতিমালা বা ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, এআই এজেন্টগুলো দিন দিন যত বেশি স্বাধীন ও স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে এবং ইন্টারনেট ও বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, ততই নতুন নতুন নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানের এই ঘটনাটি এআই প্রযুক্তির ওপর যথাযথ নজরদারি ও শক্তিশালী সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ