দেশের সব হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সিলেট প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (৪ সেপ্টেম্বর): দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারি চিকিৎসালয়গুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালগুলোতে দালালদের শিকড় উচ্ছেদ করতে র্যাব, ডিজিএফআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ (এসবি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট যৌথভাবে মাঠে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করে মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। গত এক মাসে দেশের ২৫টিরও বেশি সরকারি হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন তিনি। এ সময় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়ার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সেবার মান ও নানা অভিযোগের খোঁজখবর নেওয়া হয়।
অনুমোদনহীন ও অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বৈধ লেবার রুম বা অস্ত্রোপচার করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ও সরকারি অনুমোদন নেই, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
শিশুদের মাঝে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সচেতনতার অভাব এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে কিছু শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গিয়েছিল। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে মপ-আপ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষভাগে একটি বড় পরিসরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের হাওড় অঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম আরও বেগবান করতে প্রতিটি উপজেলায় আলাদা নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেনেজ সমস্যা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত সমস্যা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
মনোয়ারুল হক/
