সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ সেপ্টেম্বর): চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে অথবা তারা নিজ উদ্যোগে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওইসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা এবং কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরেছে—সে বিষয়ে তথ্য না থাকায় বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসেনি।
তিনি বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ৬৮ জন শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এই সময়ে ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৯৭০ জন নিখোঁজ রয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সাত মাসে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে এবং ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। অর্থাৎ মোট নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৮৭ শতাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় তারা পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাসায় ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণেও নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অভিমান, পড়াশোনার চাপ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জার কারণে পালিয়ে থাকার মতো কারণ চিহ্নিত হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের ইচ্ছা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু কিংবা সহপাঠীদের প্রভাবেও অনেক শিশু-কিশোর বাড়ি ছেড়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজ করার অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি করার সুবিধা চালু রয়েছে। এ কারণে সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। আর ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৫৫০টি।
মনোয়ারুল হক/
