ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় হতে পারে আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ সেপ্টেম্বর): জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার পটভূমি ও বিচার প্রক্রিয়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তীতে অতিরিক্ত জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়। সবশেষ গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

অভিযোগ ও দুই পক্ষের অবস্থান প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসামিরা জুলাই ও আগস্ট মাসে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন। তারা গোপন বৈঠক করে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন এবং সশস্ত্র হামলা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রার্থনা করেছে।

অন্যদিকে, মামলার সাত আসামির সবাই পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আইনি লড়াই পরিচালনা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা কোনো ঊর্ধ্বতন কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি। এছাড়া বিশৃঙ্খলা দমনে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণে দুর্বলতার কথা তুলে ধরে তারা আসামিদের খালাস চেয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন। অপর আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ