নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগত মান পরিবর্তন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী
ভোলা প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (৩ সেপ্টেম্বর): নীতিমালা প্রণয়ন করে সাংবাদিকদের গুণগতমানের উন্নয়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপির) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো নীতিমালা দিয়ে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। নীতিমালার মাধ্যমে হয়তো সাংবাদিকতাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব, কিন্তু গুণগতমান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নৈতিকতা। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি অর্ধসত্য বা হাফ-ট্রুথ সংবাদও যেন কোনো মানুষের জীবন, ক্যারিয়ার ও মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে রাষ্ট্র, জনগণ ও মানুষের কল্যাণ সাধিত হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার কারণে কোনো মানুষ যেন অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি জানান, গণমাধ্যমের ওপর তিনি কখনো হস্তক্ষেপ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। তিনি বলেন, বিশটি টেলিভিশন চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চান, কেউ টিকে থাকতে পারে না। ফ্যাসিস্ট রেজিমই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। দুই বছর আগেও দেখা গেছে, সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে কেউ পাশে থাকে না।
একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং সরকারের ভালো-মন্দ কাজগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন। সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা তাদের চাকরিচ্যুত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানান তিনি।
বর্তমান সময়ের সাইবার বুলিং ও অপতথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেক নিউজ ও সাইবার বুলিংয়ের কারণে সংবাদমাধ্যমের সৃজনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। মানুষ এখন যেকোনো সংবাদ দেখলেই সেটিকে ভুয়া বলে সন্দেহ করে। এমনকি সঠিক সংবাদ প্রকাশের পরও মানুষের মনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম ও গণমাধ্যম আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সাংবাদিকদের কলম ধরার সময় সরকারের সমালোচনা ও ভুলত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্বের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিএনপি, বিজেপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মনোয়ারুল হক/
