জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৯ সেপ্টেম্বর): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্কের আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোরালো গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
উন্নয়নে নানা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে কেন দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কাটছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশের পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তার ঠিক তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
পরবর্তী সময়েও তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। জাতিসংঘের দাপ্তরিক রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভাষণ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতে, বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও স্থান পাবে। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সংকট এবারের সফরে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, এই অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বিশ শতকের আশির দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে পথচলার সূচনা হয়েছিল, নব্বইয়ের দশক থেকে দুই হাজার সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিষেকের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।
সূত্র: বাসস
মনোয়ারুল হক/
