কুর্দিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইরানি ড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৭ আগস্ট) : ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গোয়েন্দা প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে সরাসরি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরের দিকে এই জোড়া ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভোরের দিকে তার ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবনকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি বলেন, “এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি।” তবে আঞ্চলিক কাউন্টার-টেররিজম ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, আল্লাহর রহমতে এই ভয়াবহ হামলায় সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সংস্থাটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরান সীমান্ত পেরিয়ে হাদিদ-১১০ মডেলের দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সরাসরি কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা সংস্থা পারাস্তিন এজেন্সির পরিচালকের বাসভবনের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মার্কিন সেনাঘাঁটি, বিদেশি তেল কোম্পানি এবং ইরান থেকে নির্বাসিত কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই কুর্দিস্তান অঞ্চল। তেহরান এবং ইরাকের অভ্যন্তরে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এখানে এক হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলের আকাশে বহুবার ড্রোন লক্ষ্যচ্যুত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু ড্রোন বিদ্রোহী ঘাঁটি ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানতেও সক্ষম হয়েছে।
তেহরানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো মূলত পাশ্চাত্য ও ইসরায়েলি এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই অজুহাতে চলতি বছরের এপ্রিলে ঘোষিত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি (যা পরবর্তীতে ভেস্তে যায়) চলাকালেও তাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রাখে ইরান।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তানে অবস্থিত তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও ক্যাম্প খালি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে গত ১৭ জুলাই অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলীয় সুলাইমানিয়া শহরের কাছাকাছি এলাকায় চালানো ভয়াবহ ড্রোন ও রকেট হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
মনোয়ারুল হক/
