এআই কেড়ে নেবে না চাকরি, বরং বাড়বে কাজের সুযোগ: জেফ বেজোস

আইটি ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৭ জুন) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে চলা এমন চেনা আতঙ্ককে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষের বেকার হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই; বরং উল্টো চিত্র দেখা যাবে বাজারে, যেখানে শ্রমের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রযুক্তি বিশ্বে যখন এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে, তখন বেজোসের এই আশাবাদ পুরো স্রোতের বিপরীত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের এআই পরামর্শক ঋষি সুনাক সম্প্রতি তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে বেজোস বলেন, “অনেকে ভাবছেন এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার বিশ্বাস, এআই ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে।” তিনি যোগ করেন, মানুষ মেধার অভাবে নয়, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আটকে থাকে, যা দূর করতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি। মূলত নিজের নতুন এআই প্রজেক্ট ‘প্রমিথিউস’ (যা উৎপাদন শিল্পকে গতিশীল করতে কাজ করছে) নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তবে বেজোসের এই অতি-আশাবাদের সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলে অতীতের শিল্প বিপ্লবের মতোই এবারও ধনীরা আরও ধনী হবে এবং সাধারণ কর্মীরা কাজ হারাবে। অবশ্য সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এআই-এর উৎপাদনশীলতা থেকে কর্মীরাও সুবিধা পাবে বলে তারা মনে করে।

ইউরোপের বৃহৎ প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক প্যারিস’-এ বেজোস তাঁর মহাকাশ গবেষণার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও উন্মোচন করেন। তিনি জানান, পৃথিবী ছাড়িয়ে মানব সভ্যতার প্রসারের জন্য চাঁদ হতে পারে সেরা প্রাথমিক ঘাঁটি। চাঁদে কেবল ভ্রমণের জন্য নয়, স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সেখানে ‘ইলেক্ট্রোলাইসিস’ বা তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

আলোচনায় বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’-এর সাম্প্রতিক ব্যর্থতার বিষয়টিও উঠে আসে। গত মে মাসে ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় তাঁদের মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেটটি বিস্ফোরিত হয়। একে বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করলেও বেজোস স্বস্তি প্রকাশ করেন যে, এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং মূল অবকাঠামো সুরক্ষিত রয়েছে। ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প একই মঞ্চে জানান, উৎক্ষেপণ স্থলের সংস্কার কাজ চলছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাঁরা আবারও রকেট আকাশে ওড়াতে পারবেন। বর্তমানে মহাকাশ বাজারে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ব্লু অরিজিন।

মেলার মূল মঞ্চের বাইরে দর্শনার্থীদের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির তৈরি একটি হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট। ফরাসি নিউরো-এআই প্রতিষ্ঠান ‘এইচএবিএস’-এর প্রযুক্তির সহায়তায় এই রোবটটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা কোনো কথা বা রিমোট ছাড়াই, কেবল মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এজন্য ব্যবহারকারীর মাথায় একটি বিশেষ ‘ইইজি’ হেডব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয়, যা মাথার ত্বক থেকে সংকেত সংগ্রহ করে রোবটের কাছে পাঠায়। এই উদ্ভাবনটি প্রমাণ করেছে যে এআই এখন আর শুধু চ্যাটবটের স্ক্রিনে বন্দি নেই, বরং বাস্তব পৃথিবীতে মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন শিল্পে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি 

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ