কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ১৩৪, নিখোঁজ ৩ হাজার ছাড়িয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১১ আগস্ট) : কলম্বিয়ায় আঘাত হানার পর শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৩৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ১শর বেশি মানুষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কফি অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন শহরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, এটি চলতি শতকে দেশটির ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। চোকো, রিসারালদা, ভায়েল দেল কাউকা এবং কালদাস প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে ৬২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
মাত্র তিন দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সামরিক বাহিনীকে সরাসরি উদ্ধারকাজে নামিয়েছেন। পেরিইরা, ক্যালি এবং কিবদোসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে।
রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত মানুষ পাজামা ও নগ্ন পায়েই রাস্তায় নেমে আসেন। অনেক স্থানে মানুষ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ম্যানিজালেস শহরে বহুলপ্রিয় একটি গথিক ক্যাথেড্রালের কিছু অংশও ধসে পড়েছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শাবল, বালতি ও খালি হাতেই মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ইট-সিমেন্টের স্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের শিস বা আওয়াজ শোনার জন্য কিছুক্ষণ পরপর কাজ থামিয়ে নীরবতা পালন করছেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। এই কম্পন প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, নাজকা টেকটোনিক প্লেটের গভীরে থাকা চ্যুতিরেখায় নড়াচড়ার কারণে এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্যালিতে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং দেশটির পাঁচটি শহরের হাসপাতালকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আঞ্চলিক অন্তত ছয়টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া পেশাদার ফুটবলের সব ম্যাচ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরা দেশবাসীকে এক হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ত্রাণ হিসেবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ইসরাইল, মেক্সিকো, ইকুয়েডর ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও উদ্ধারকাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পাওয়ায় এবং ধসে পড়া বহুতল ভবনগুলোতে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মনোয়ারুল হক/
