দেশের পর্যটন খাতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৬ সেপ্টেম্বর): দেশের পর্যটন খাতকে আরও বেগবান, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে কাজ চলছে। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্র ও আকর্ষণকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আগামীকাল রবিবার ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংহত পদক্ষেপের মাধ্যমেই দেশের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রকৃতির অপার মহিমায় ঘেরা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি ও নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের দিগন্তজোড়া জলরাশি, পাহাড়, নদনদী, সবুজ ফসলের মাঠ এবং ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় রূপের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বাংলাদেশকে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে। পাশাপাশি পর্যটন খাত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ধারা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আধুনিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পর্যটন খাতের রূপ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন বিশ্ব পর্যটনের ব্যবস্থাপনা, কাঠামো এবং সেবার ধরন পুরোপুরি পাল্টে দিচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এই বাস্তবতায় এবারের দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং অর্থবহ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাণীতে আরও বলা হয়, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা আধুনিকায়ন, মানসম্মত পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং একইসঙ্গে ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম প্রসারে নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রযুক্তিগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতের ডিজিটাল রূপান্তর আরও দ্রুত গতি পাবে। অনলাইন হোটেল-রিসোর্ট বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক তথ্যসেবা দেশের পর্যটন স্থানগুলোকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও নিরাপদ, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য এবং দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটনের টেকসই ও ডিজিটাল রূপান্তর সাধনই হোক আমাদের সকলের অভিন্ন অঙ্গীকার।
পরিশেষে রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
মনোয়ারুল হক/
