সেন্ট মার্টিন গেল মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (৫ নভেম্বর): দীর্ঘ ১০ মাস বিরতির পর অবশেষে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮০০ জন যাত্রী নিয়ে চলতি মৌসুমের উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করে ‘এমভি বার আউলিয়া’ নামের পর্যটকবাহী জাহাজটি।
ভোর ৬টা থেকেই সংশ্লিষ্ট ঘাটে পর্যটকদের ভিড় জমতে শুরু করে। এ সময় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে তোলা থেকে বিরত রাখতে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আজ আটশতাধিক যাত্রী নিয়ে মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। কক্সবাজার নদীবন্দরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নয়ন শীল উল্লেখ করেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছর পর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাওয়া ঢাকার খিলগাঁও এলাকার নাবিল আহমেদ বলেন, চলতি মৌসুমের প্রথম দিনে সেন্ট মার্টিন যেতে পেরে ভালো লাগছে। তবে টেকনাফ ঘাট থেকে যাতায়াতের মজাই আলাদা ছিল, কারণ সেখানে সময় ও খরচ কম লাগত। তার মতে, কক্সবাজার শহরের ঘাট থেকে যাতায়াতে খরচ ও হয়রানি কিছুটা বেশি। গাজীপুরের কাদের জিলানির মতে, আগে টিকিটের দাম ছিল তিন হাজার পাঁচশ টাকা, যা বেড়ে এবার সর্বনিম্ন চার হাজার দুইশ টাকা হয়েছে। এই মূল্য অনেক বেশি মনে হওয়ায় তা শিথিল করার দাবি জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে কয়েকটি সাউন্ডবক্স বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তিনি সবাইকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, প্রথম দিনে প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করাসহ পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারের সব নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে পর্যটকদের অবহিত করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো— এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্ট মার্টিন ঘাট ছাড়বে।
সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময়ে দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বীপে প্রবেশ করতে হলে প্রতিটি পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চার বছর আগে টেকনাফ ঘাট থেকেই সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করত। তবে বর্তমানে নিরাপত্তার কারণ ও নাব্য সংকটের কারণে টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে জাহাজগুলো চলাচল করছে।
মনোয়ারুল হক/
