ইরান যুদ্ধের কারণেই রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৫ নভেম্বর): মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বিপর্যয়ের পেছনে ইরান সংঘাতকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বুধবার সকালে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমাদের এই হারের মূল কারণ যুদ্ধ। স্বয়ং প্রেসিডেন্টও গত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
মধ্যবর্তী ভোটে নিজ দলের বড় রকমের ধাক্কা খাওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ভ্যান্স। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছিলেন, যদিও তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান এখনও বদলাননি তিনি।
বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব ছিলেন ভ্যান্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউসের লড়াইয়ের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে জনপ্রিয়হীন এই যুদ্ধ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছেন তিনি।
কংগ্রেসের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ উদ্ঘাটনে জনমত জরিপ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভ্যান্স জানান, মূল সমস্যা ভোটারদের কেন্দ্রে অনুপস্থিতি ছিল না।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আসল বিষয় হলো, ২০২৪ সালে যারা আমাদের অর্থাৎ ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’
ভ্যান্সের মতে, ভোটারদের অসন্তুষ্টির পেছনে কাজ করেছে ইরান সংঘাত, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং তেল আবিবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বর্তমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। উল্লেখ্য, ইসরায়েল প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কেউ যদি মনে করেন এই যুদ্ধের খেসারত হিসেবে নির্বাচন হারানো বা আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সঠিক ছিল, তবে তাঁরা নিজেদের যুক্তির পক্ষে বলতেই পারেন। আপনারা আমার সঙ্গে সহমত হোন আর না হোন, অন্তত এই নির্মম সত্যটি সততার সঙ্গে স্বীকার করুন যে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের রাজনৈতিকভাবে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে।’
ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমাদের এই পরাজয়ের নেপথ্য কারণ কারও অজানা নয়। এখন সমস্ত ভুলত্রুটি শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে হলে যেকোনো আলোচনা এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই শুরু করা উচিত।’
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই এই সংঘাতের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন ভ্যান্স।
এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে।
নির্বাচন পরবর্তী এক্সিট পোল বা প্রস্থান জরিপের তথ্য বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারই স্বীকার করেছেন যে মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি, জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার জন্য ৬০ শতাংশ ভোটারই ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি
মনোয়ারুল হক/
