ইনানীতে নলকূপের গ্যাসে আগুন, ১৪৪ ধারা জারি

চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ অক্টোবর): কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় একটি নলকূপ বসানোর সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ওই এলাকার আগুনের উৎসের চারপাশে ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটা থেকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। প্রায় ১ হাজার ফুট গভীরে পাইপ বসানোর সময় মাটি ভেদ করে গ্যাস নির্গত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

প্রাথমিক ধারণায় ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নানা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জননিরাপত্তার স্বার্থে আগুনের উৎস ও এর আশেপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে বিভক্ত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস নির্গমনস্থল ও এর আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান করা কিংবা দিয়াশলাই ও লাইটার ব্যবহারের মতো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টির যেকোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের জারি করা এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ