এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা ৩ বছর বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ অক্টোবর): জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশন বা উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এই অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক সক্ষমতা জোরদার করা, রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করা এবং এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় পেল।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান এ প্রসঙ্গে জানান, কেবল আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার আলোকেই বাংলাদেশ এই উত্তরণের পথে এগোচ্ছে। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন, জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনে ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখেই এই আবেদন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের করা এই আবেদনের পক্ষে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি বা সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশের পর গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে প্রেরণ করে।

প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা সফল করতে সরকার তিন বছর মেয়াদী একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছিল। এই কর্মপরিকল্পনায় প্রতিটি বছরের জন্য আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ধিত এই সময়ের সদ্ব্যবহার করে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করা, রপ্তানি পণ্যের পরিধি ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উন্নত অবকাঠামো ও শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের দারুণ এক সুযোগ তৈরি হলো।

অতিরিক্ত এই সময়কে কাজে লাগিয়ে একটি অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণের পাশাপাশি উত্তরণ-পরবর্তী যেকোনো চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জনই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ