নতুন মোড়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর ও ভূরাজনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১১ আগস্ট) : রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানামুখী টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ে প্রতিনিধিদল নিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই সফর দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংলাপের নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

‘র’ প্রধান ও এসপিজির বিশেষ সচিব পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের এই দলে আরও ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবালরায় চৌধুরী। সফরে তারা রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান এবং সোমবার (১০ আগস্ট) বৈঠক শেষে রাতেই নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়।

ঢাকায় আসার ঠিক আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেন, যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ভারতের কৌশলগত ভারসাম্যের বড় একটি ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বেইজিং সফর শেষেই তার এই ঢাকা উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে ভারত নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ছক কষছে।

দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে এই বৈঠক দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর মধ্যে আস্থার সংকট দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো একে ‘রুটিন ভিজিট’ বা নিয়মিত সফর হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দুই দেশের মধ্যকার অস্বস্তি ও টানাপোড়েন কমাতে পর্দার আড়ালে এটি একটি বড় কূটনৈতিক প্রয়াস।

দুই দেশের সম্পর্কে স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনতে পারস্পরিক নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পরাগ জৈনের এই সংক্ষিপ্ত ও নীরব সফর ইঙ্গিত দেয় যে, দৃশ্যমান রাজনীতির বাইরে দুই দেশের নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারক মহল পেছনের চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এই সংলাপ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ