দেশের অগ্রযাত্রায় ৪০ কোটি হাতকে উৎপাদনশীল করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), আলোকিত সময়, (১৫ আগস্ট) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তর করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

১৫ আগস্ট আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর হাঁটতে শিখতেও ১৮ মাস সময় লাগে, আর আপনাদের নির্বাচিত এই সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই স্বল্প সময়েই আপনারা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছেন।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে মেগা প্রকল্পের নামে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অন্য দেশের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সরকারের পতন ঘটিয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া ৩১ দফা রূপরেখার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। গত ছয় মাসে প্রায় নয়শ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে, যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।

প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে সরকারের নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে উন্নীত করে ১৫১ শয্যায় রূপান্তরের কাজ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গেছে এবং গত ১৭ বছরে একটি নতুন গ্যাস কূপও খনন করেনি। বর্তমান সরকার বাপেক্সের মাধ্যমে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত শুরু করেছে। তবে আমদানীকৃত এলএনজি সরবরাহের ফ্লোটিং স্টোরেজে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাময়িক এই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কিছু রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদল মানুষ হাতে হারিকেন নিয়ে পেছনে ফ্যান চালিয়ে হটকারিতা প্রদর্শন করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ তাদেরই সহযোগীরা অতীতে তৃতীয় এলএনজি জাহাজের পারমিশন বাতিল করেছিল। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে সরকারের চেয়ে ভালো গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান পরিকল্পনা জাতির সামনে নিয়ে আসুন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা সমাধান করার মতো ভালো পরিকল্পনা দিলে সরকার তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি কি পেলাম সেটি বড় কথা নয়, দেশকে আমি কি দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা।” দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানীসহ অন্যান্যরা।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ