১০ এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৯ সেপ্টেম্বর): দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১০টি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসেই এসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমরা আমেরিকায় ১১টি বোয়িংয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছি এবং এ নিয়ে মোট চুক্তি স্বাক্ষর হলো ২৫টি। এর আগে আমরা ১৪টি বোয়িংয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। সবমিলিয়ে বোয়িংয়ের চুক্তিভুক্ত সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে, যার মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি এবং ১১টি ন্যারো বডি এয়ারক্রাফট রয়েছে।”
এতো বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ এই মুহূর্তে কেনা এবং দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষর করার অর্থ এই নয় যে এখনই সেগুলোর অর্থ পরিশোধ করতে হবে বা প্লেনগুলো চলে আসবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি আমাদের হাতে আসবে ২০৩১ সালে। তবে আমরা ইউএস কমার্স সেক্রেটারি ও তিন মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, যাতে অন্তত একটি বিমান হলেও আমাদের জন্য ২৭ বা ২৮ সালের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই ২৫টি উড়োজাহাজ হাতে পেতে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে।”
উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, “২০৩১ সাল থেকে যখন একটি একটি করে বিমান আমাদের বহরে যুক্ত হবে, তখন আমরা সেগুলোর উড্ডয়ন শুরু করব এবং আপাতত আমাদের কোনো অগ্রিম অর্থ দিতে হচ্ছে না। আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি, বিমান হাতে পাওয়ার পর ধাপে ধাপে মূল্য পরিশোধ করা হবে। আশা করছি, ফ্লিটের নিজস্ব আয় থেকেই এই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।”
দেশের এভিয়েশন খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের চেয়ে অনেক কম জিডিপি হারের দেশ ইথিওপিয়াও আজ ১৬৭টি উড়োজাহাজের বহর নিয়ে তাদের এভিয়েশন খাত থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। সেই তুলনায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। আমাদের ২০ কোটি জনসংখ্যার দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের বিশাল শ্রমবাজার রয়েছে। বর্তমানে আমাদের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে প্রায় দুটি গ্রাউন্ডেড হওয়ার উপক্রম, অর্থাৎ কার্যকর আছে ১৭টি। এই ১৭টি বিমানও আগামী ১০ বছরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। দূরদর্শী পরিকল্পনা না থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রী হিসেবে আমি মনে করি, আগামী ২০, ২৫ বা ৩০ বছর পর আমাদের এভিয়েশন খাত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেই দূরদর্শী চিন্তা থেকেই এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করা হচ্ছে।”
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হলে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বহরের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়বে জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১০টি এয়ারবাস যুক্ত করে একটি মিশ্র বহর বা মিক্স ফ্লিট গড়ে তুলতে চাই। চলতি মাসেই যদি এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে আমাদের নতুন কেনা ৩৫টি এবং সচল ১৭টি মিলিয়ে ২০৩৬, ৩৭ এমনকি ২০৪০ সালের মধ্যে আমাদের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা সচল রাখতে লিজে বিমান আনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন যে নতুন প্লেন আসার আগ পর্যন্ত আমরা কীভাবে কাজ চালাব, বিশেষ করে যখন আমাদের বিমানবন্দরগুলোর পরিসর বাড়ছে এবং নতুন থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে? বর্তমানে আমাদের দেশের যাত্রীদের সিংহভাগই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বহন করছে। জাতীয় পতাকাবাহী ক্যারিয়ার হিসেবে আমরা মাত্র ২০ শতাংশ যাত্রীকে নিজেদের বিমানে বহন করতে পারছি। তাই আমাদের ফ্লিট বা বহর বাড়াতে নতুন প্লেন হাতে আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”
মনোয়ারুল হক/
