বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৫ আগস্ট) : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ ১৫ আগস্ট। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বেলা ১১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং বাদ আসর গুলশানের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যথাযোগ্য মর্যাদায় এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ সময় বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে নির্বাচনি ইশতেহার এবং ৩১ দফায় প্রদত্ত অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, নির্ধারিত ছয় মাসের লক্ষ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতের বাস্তবায়ন ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ, এমনকি কোথাও কোথাও শতভাগে উন্নীত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিবের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন ও পদত্যাগ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আইনগতভাবে শপথ গ্রহণের পূর্বে দলীয় বা অন্য কোনো পদ ছাড়ার আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সম্পূর্ণ নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার শুরুতে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের নানাবিধ সমস্যায়ও আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার আদি নিবাস ফেনী। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

পতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সফলভাবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, দীর্ঘ কারাবাস ও বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জীবন সায়াহ্ন পর্যন্ত তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

শুক্রবার উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) ও প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) তারিকুল আলম তেনজিং এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলীসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ