প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেবে সরকার

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৯ সেপ্টেম্বর): দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা আরও সহজলভ্য করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আলমাহমুদ তিতুমীর।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবার মান উন্নত করে এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ, সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি দলে ড. রাশেদ আলমাহমুদ তিতুমীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে দেশের প্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঠিক ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা কার্যক্রম, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী। এছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও এর বিকাশ নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের পরিচালনায় ‘মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোরের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও সিইও মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউড এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও বদরুল সারওয়ার।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা খাত, স্টার্টআপ এবং শিল্প খাতের মধ্যে নিবিড় সংযোগ তৈরি করে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বিএইআর সামিটসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত মেধাকে যথাযথ উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভাবনীয় সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। এই সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ দেশের নানা বাস্তব সমস্যার সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে শিশুদের কেবল ডিজিটাল দক্ষতাই নয়, বরং মৌলিক শিক্ষায় সমানভাবে পারদর্শী করে তুলতে হবে। শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান, শ্রেণিকক্ষে এআই ও প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। এছাড়া যেকোনো নতুন শিক্ষাপদ্ধতি মূলধারায় প্রবর্তনের আগে তা পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সাথে নিয়ে এই রূপকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

সূত্র: বাসস

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ