আর্থিক ৪ প্রতিষ্ঠানকে শেষ সুযোগ, ব্যর্থ হলে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১ জুলাই) : টানা লোকসান, অনিয়ম এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণের বৃত্তে বন্দি দেশের চার অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) টেনে তুলতে শেষ সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সদ্য পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর কঠোর ধারা প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে আগামী তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই ডেডলাইনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বন্ধ (অবলুপ্তি) বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত (মার্জার) করার মতো চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিশেষ এই আলটিমেটামের মুখোমুখি হওয়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

টিকে থাকতে পূরণ করতে হবে যেসব শর্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের নিজস্ব তহবিল থেকে নতুন মূলধন জোগান দিতে হবে এবং বাজারে প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ও খেলাপি ঋণ আদায় কিংবা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পাহাড় কমিয়ে আনতে হবে। সর্বোপরি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সাধারণ ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দৃশ্যমানভাবে শুরু করতে হবে।

ব্যর্থতার পরিণতি হবে ভয়াবহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত দীর্ঘদিন ধরেই নড়বড়ে। সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের জমা রাখা টাকা তুলতে গিয়ে মাসের পর মাস ঘুরেও তা পাচ্ছেন না। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবার নতুন আইনের অধীনে তাদের শেষ সুযোগ দেওয়া হলো। তিন মাসের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, জোরপূর্বক একীভূতকরণ কিংবা সরাসরি অবসায়নের মতো কঠোর ‘রেজল্যুশন কার্যক্রম’ শুরু করবে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আর্থিক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে বর্তমান বাস্তবতায় মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই ডুবন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় মূলধনের জোগান দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না—তা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ