নিবন্ধন করেও এইচএসসি পরীক্ষার বাইরে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১ জুলাই) : একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার পরও চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসছে না প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিবন্ধন করেও বিশাল সংখ্যক এই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণ না করা বা ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষাঙ্গনে বড় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা বোর্ডের ৬১ হাজারেরও বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৯০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। ফলশ্রুতিতে, ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ থেকে বিরত থেকেছে। শতকরা হিসেবে সাধারণ বোর্ডের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশই পরীক্ষার মূল স্রোত থেকে ছিটকে গেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চিত্রটিও বেশ আশঙ্কাজনক। আলিম প্রথম বর্ষে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও শেষ পর্যন্ত ফরম পূরণ করেছে মাত্র ৭৮ হাজার ২৬৯ জন। বাকি ৬১ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ না করায় এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে। এই বোর্ডে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে (ভোকেশনাল) নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছে মাত্র ৭৫…১৯৭ জন। ফলে রেকর্ড ৯০ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগেই ঝরে গেছে। কারিগরি বোর্ডে ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা অন্যান্য যেকোনো বোর্ডের তুলনায় অনেক বেশি।
সার্বিকভাবে, এবার মোট ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের জন্য নিবন্ধন করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। ফলে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত আসর থেকে বাইরে রয়ে গেল, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
শিক্ষার্থীদের এই বিপুল হারে পরীক্ষা থেকে দূরে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার মূল কারণগুলো আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি। শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে আমাদের কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ড্রপ আউট বা ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।”
মনোয়ারুল হক/
