টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নিতে গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১ জুলাই) : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি টেক্সটাইল শিল্পকে আরও গতিশীল করতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে শীর্ষস্থানে ধরে রাখতে দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরি করা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এর নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বুটেক্স কোনো সাধারণ বিকল্প প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এখানকার শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের টেক্সটাইল খাতের নেতৃত্ব দেবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বছর বুটেক্সের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারসহ বিসিএসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড আমাদের জন্য গর্বের হলেও, এখন দেশীয় বাজারেও আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মানসিকতা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। টেক্সটাইল শিক্ষাকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুটেক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ল্যাবসহ আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবি এবং এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বুটেক্সের বর্তমান আসন সংখ্যা (৬৫০ জন) বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায়, ভবিষ্যতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এছাড়া, অতীতে এ দেশের টেক্সটাইল ও বায়িং হাউসগুলোতে বিদেশি কর্মীদের যে আধিক্য ছিল, দেশীয় মেধার বিকাশের মাধ্যমে তা কমিয়ে আনার তাগিদ দেন তিনি।

প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আনন্দময় শিক্ষা, মিড-ডে মিল ও ইউনিফর্ম প্রথা চালু করছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে সেশনজট দূর করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (এসএসসি ১০ বছর, এইচএসসি ২ বছর ও স্নাতক ৪ বছর) পড়াশোনা শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার দুটি বিশেষায়িত সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।

শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও আধুনিক করতে হবে। বুটেক্সের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের যৌক্তিক দাবিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করার আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ