এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে বিধ্বস্ত করে শেষ ১৬’তে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১ জুলাই) : কিলিয়ান এমবাপ্পের জাদুকরী পারফরম্যান্স ও জোড়া গোলের ওপর ভর করে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। এই দাপুটে জয়ে ফরাসিরা নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের শেষ ১৬’র টিকিট। ম্যাচে এমবাপ্পের জোড়া গোলের পাশাপাশি জালের দেখা পেয়েছেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আর পুরো ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠের সুতো কেটে ফ্রান্সের জয়ে দুটি অ্যাসিস্ট করে বড় ভূমিকা রেখেছেন মাইকেল ওলিসে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সিংহভাগই ছিলেন ফরাসি সমর্থক, যাদের পুরোপুরি বিনোদন দিয়েছেন এমবাপ্পেরা। ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডিশ রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে ফ্রান্স। যদিও প্রথমদিকের দুটি নিশ্চিত সুযোগ পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় তাদের; যার একটি ছিল এমবাপ্পের এবং অন্যটি ওলিসের চোখ ধাঁধানো ওভারহেড বাইসাইকেল কিক। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) কর্নার থেকে ওলিসের সহায়তায় দারুণ এক শটে সুইডিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ডেডলক ভাঙেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে।

পুরো ম্যাচেই বলের দখল ও আক্রমণের ধার—সব বিভাগেই আধিপত্য বজায় রাখে দিদিয়ের দেশ্যমের শিষ্যরা। বিরতির পর সুইডেন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ৫৩ মিনিটে তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ওলিসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই পিএসজি উইঙ্গার। এরপর ৭৪ মিনিটে ওলিসের দুর্দান্ত আরেকটি অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ ৬ গোলের কীর্তিকে স্পর্শ করলেন তিনি। একই সাথে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যা মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে।

এই ম্যাচটি ফরাসি শিবিরের জন্য আবেগঘন ছিল, কারণ মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে শনিবারই দলের সাথে যোগ দিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। বিশ্বকাপ শেষেই ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়া এই মাস্টারমাইন্ডের অনুপস্থিতিতে গত ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে খেলেছিল ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের অধীনে আরও একটি শিরোপার স্বপ্ন দেখছে লেস ব্লুজরা।

সুইডেনের গ্র্যাহাম পটারের দল প্রিমিয়ার লিগের তারকা ভিক্টর গায়োকেরেস, আলেক্সান্ডার ইসাক ও এন্থনি এলানগাদের নিয়ে আক্রমণভাগ সাজালেও ফ্রান্সের জমাট রক্ষণের সামনে তারা ছিলেন পুরোপুরি খোলসবন্দী। পর্যাপ্ত বলের যোগান না পাওয়ায় কোনো কার্যকর সুযোগই তৈরি করতে পারেনি সুইডিশরা, ফলে ম্যাচ হেরে তাদের বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হলো।

আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ১৬’র হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে এই প্যারাগুয়েকেই অতিরিক্ত সময়ে লরেন্ট ব্ল্যাঙ্কের গোল্ডেন গোলে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিরা। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখতে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে-ওলিসেরা।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ