বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, বাঁচলো ৫০ লাখ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), আলোকিত সময়, (১ জুলাই) : সরকারি ব্যয় সংকোচনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রথাগত নৈশভোজটি বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর বিকেল ৪টার দিকে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হয়। প্রতিবছর বাজেট পাসের রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হতো, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেটি বাতিল করায় সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিগত সরকারের আমলের বিপুল খরচের খতিয়ান তুলে ধরে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু আপ্যায়ন খাতেই প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। অনেক সময় এই সীমার বাইরেও আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে এই খাবার সরবরাহ করা হতো এবং বিগত সরকারের আমলের সেই বিশাল অঙ্কের বকেয়া টাকা বর্তমান সরকারকেই এখন ধাপে ধাপে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সেই তুলনায় বর্তমান সরকারের মিতব্যয়িতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আপ্যায়ন ভাতা ব্যাপক হারে কাটছাঁট করেছেন। এর ফলে চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খরচ নেমে এসেছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকায়। এছাড়া, দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। বাজেট পাসের এই পুরো প্রক্রিয়া জুড়েই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে প্রবেশ করে শুরু থেকেই অধিবেশন কক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ ও আইন প্রণয়নসহ প্রতিটি কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এমনকি অধিবেশনের বিরতির সময়টুকুতেও তিনি বিশ্রাম না নিয়ে জরুরি দাপ্তরিক কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন।
মনোয়ারুল হক/
