প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৯ আগস্ট) : ‎‎প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

‎আজ রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র‍্যাকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‎

‎প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষা কোনো পোশাক বদলানোর মতো তাৎক্ষণিক বিষয় নয়, তাই এর উন্নয়নে সময়, সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যনির্ভর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী মৌলিক বাংলা ও পঠন দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে রিমিডিয়াল এডুকেশন বা সহায়তামূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেও কোনো শিশু যদি প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির মৌলিক পাঠ বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে তা তার পুরো শিক্ষাজীবনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফেরাতে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী ১৬ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ের মিড-ডে মিলের অভিজ্ঞতা থেকে ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের মাধ্যমে কর্মসূচিটি আরও ফলপ্রসূ করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও আনন্দদায়ক করতে কারিকুলামে আসছে অভিনব পরিবর্তন। শিশুরা যাতে শুধু বইয়ের পাতায় নয়, বরং খেলতে খেলতে ও হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিখতে পারে, সে জন্য পাঠ্যক্রমে ‘সায়েন্স টয়’ ও ডিজাইনভিত্তিক নানা কার্যক্রম যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন উপকরণের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা গণিতের মৌলিক ধারণা সহজে আয়ত্ত করতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মাঠ থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনিক নজরদারি আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামত কামনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ