সোনারগাঁয় স্কুলছাত্রীকে লাথি, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক (নারায়ণগঞ্জ), এবিসিনিউজবিডি, (৮ আগস্ট) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলড্রেস পরিহিতা এক ছাত্রীকে পেছন থেকে সজোরে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে চারদিকে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে—অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই স্কুল থেকে টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরে হেঁটে যাচ্ছে দুই ছাত্রী। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে এক কিশোর এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি এর প্রতিবাদ করলে তাকে আরও একবার লাথি মারতে দেখা যায়। পুরো দৃশ্যটি আশপাশে থাকা এক ব্যক্তি তার মুঠোফোনে ধারণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীসংলগ্ন ওয়াকওয়েতে প্রায় এক মাস আগে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী সেখানে ছিল। প্রায় সাড়ে ১১ বছর বয়সি অভিযুক্ত কিশোর হঠাৎ এসে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ওই কিশোরের পরিবার রায়েরটেক এলাকায় ভাড়ায় থাকে; তার বাবা রিকশাচালক এবং মা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। অন্যদিকে, লাঠিপেটার শিকার হওয়া ছাত্রীর বাবাও একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক।

ঘটনার আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় কিছু লোক সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করান এবং তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেন। সে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন অপরাধ করবে না বলেও সেখানে মুচলেকা বা অঙ্গীকার করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনাটি মাসখানেক আগের হলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তার অভিযোগ, স্কুল চলাকালীন স্কুলের বাইরে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদের একতরফা সিদ্ধান্তে তার অবুঝ মেয়েকেই টিসি দেওয়া হয়েছে। নিরুপায় হয়ে এখন তিনি মেয়েটিকে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আগেই সমাধান করা হয়েছিল।

ঘটনাটির ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ