জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ সেপ্টেম্বর): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।
ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট শেষে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর আবাসনস্থল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোটেলের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হন। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দেন। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে ডা. জুবাইদা ছাড়াও রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
দুপুর থেকেই জেএফকে বিমানবন্দরের আশপাশ এলাকায় আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে তারা উৎসবে মেতে ওঠেন। নেতাকর্মীদের মতে, বিশ্বমঞ্চে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন রূপরেখা ও নীতি তুলে ধরার জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ আলোচনায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এই ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক কাঠামোর সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:
২২ সেপ্টেম্বর:
এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।
সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
২৩ সেপ্টেম্বর:
প্রধানমন্ত্রী এদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
তিনি এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর:
প্রধানমন্ত্রী এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করবেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। তিনি এদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথেও বৈঠক করবেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।
এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর:
জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বাসস
মনোয়ারুল হক/
