শার্শায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু

যশোর প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২২ সেপ্টেম্বর): স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নান্দনিক আর্চ গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার উলাশী ডাকবাংলা-যদুনাথপুর সড়কের ৪৫.০০ মিটার চেইনেজে ১১৪ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে এই সেতুর প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক চিঠি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিশেষ ডিও লেটার বা আধা-সরকারি পত্রের কারণেই শার্শাবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত এই সেতুটির অনুমোদন দ্রুত সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘শার্শায় এই প্রথম এমন একটি দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। সেতুটি চালু হলে এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে সহজে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এর সুদূরপ্রসারী সুফল ভোগ করবেন। আমরা প্রত্যাশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মানদণ্ড বজায় রেখে কাজটি সম্পন্ন হবে।’

প্রকল্পের অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, সেতু ও এর সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণ বাবদ ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩ টাকা এবং সংযোগ সড়কের জন্য ১ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার ৮১১ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে ‘এক ধাপ, দুই খাম’ বা ওয়ান স্টেজ টু এনভেলাপ পদ্ধতিতে দ্রুতই এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার শর্ত রয়েছে।

কাজের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে অনুমোদনপত্রে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা ও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দরপত্র আহ্বানের আগেই গ্লোবাল জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে সেতুর নির্ভুল লে-আউট বা বিন্যাস নির্ধারণ করা।

এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএ কিংবা সংশ্লিষ্ট হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সহযোগিতায় স্ট্যান্ডার্ড হাই ওয়াটার লেভেল পরিমাপ করে সেতুর সঠিক উচ্চতা বা ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্ষাকালে নৌ চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়।

নির্মাণকাজে শতভাগ জবাবদিহিতা ধরে রাখতে পাইলিংসহ পুরো কাজের রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও ভিডিও ফুটেজ সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। এমনকি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হলে ঠিকাদারকে কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও কড়া নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে শার্শা উপজেলার সঙ্গে আশেপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙা হবে এবং স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজেই দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন।’

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ