খুলনায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
খুলনা প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২১ সেপ্টেম্বর): খুলনা নগরীর একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে মো. আজমুল হোসেন (২১) নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের সন্তান। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং নগরীর ইসলামনগর এলাকার একটি চারতলা ছাত্রাবাসে প্রায় এক বছর ধরে বসবাস করছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার রাতে। স্থানীয় ও মেস সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে মেসের ম্যানেজার মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলার মতো তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আজমুলের বিরুদ্ধে ‘ভাত চুরির’ আজব অপবাদ তোলা হয়। এরপর মেসের কিছু শিক্ষার্থী ও বাইরে থেকে আসা কয়েকজন বহিরাগত মিলে তাকে জোরপূর্বক ভবনের ছাদে তুলে নিয়ে অমানুষিক মারধর করেন। পরবর্তী সময়ে আশপাশের লোকজন ছাদ থেকে কিছু পড়ার বিকট শব্দ শুনতে পান এবং কিছু সময় পর গলির মধ্যে আজমুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৬০ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের সহপাঠী ও শিক্ষকসমাজ। সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথমে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ও দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই’ এবং ‘এক লোকমা ভাতের তরে মায়ের বুক খালি করে, আজমুল হত্যার বিচার চাই’ সংবলিত বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এই অবরোধের ফলে সোনাডাঙ্গা মোড় ও এর আশপাশের সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা জনমনে তীব্র প্রভাব ফেলে।
বিক্ষোভ সমাবেশে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কানাই লাল সরকার জোরালো বক্তব্য দেন। তিনি জানান, একাধিক ব্যক্তি মিলে অত্যন্ত নির্মমভাবে আজমুলকে মারধর করেছে এবং তার পুরো শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।
অবশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বেলা দেড়টার দিকে তাদের আজকের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন।
মনোয়ারুল হক/
