রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হট্টগোল-বিশৃঙ্খলায় ‘দুঃখিত-লজ্জিত’ রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৫ আগস্ট) : জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ৩৬ জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হলেও সেখানে আন্দোলনের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রামাণ্যচিত্রটি শেষ হওয়ার পরপরই আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের একাংশ যথাযথ প্রতিনিধিত্বের অভাবে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
পরে এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জানান, মানুষমাত্রই ভুল করে এবং প্রামাণ্যচিত্রটিতেও ভুল ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি এবং তাঁর ছবি বাদ পড়লে তা প্রামাণ্যচিত্র হতে পারে না; একইভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও অনুপস্থিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী করজোড়ে বারবার ক্ষমা চাওয়ার পরও বিষয়টি ধরে রেখে ওয়াকআউট করা উচিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে গভীর হতাশা প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এমন একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের দৃশ্য দেখে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত ও ব্যথিত হয়েছেন। সকালে দারুণ জাতীয় ঐক্যের আবহ দেখা গেলেও বিকেলের এই আচরণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ছিল। অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিদের সামনে এই বিশৃঙ্খলা তাঁকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে।
নেতা ও কর্মীদের আচরণের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অনুসারীরা অনেক সময় নেতাদের কথা মানতে চান না এবং নিজেদের বড় প্রমাণে উদগ্রীব থাকেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনা শোভন নয় এবং এই মানসিকতা থেকে কবে উত্তরণ ঘটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মনোয়ারুল হক/
