স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৫ জুন) : আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নেমে শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডকে চাপে রাখে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলের সুবাদে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় পায় ব্রাজিল। দলের হয়ে দুটি গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, অন্য গোলটি আসে মাথেউস কুনিয়ার পা থেকে।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় মরক্কো রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে। তিন পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ডকে এখন অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে হাইতি তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছে।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। রাফিনিয়ার বদলে সুযোগ পান তরুণ উইঙ্গার রায়ান। ১৯ বছর ৩২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে শুরুর একাদশে নামার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তার উপস্থিতি ফল দেয়। স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গানের ভুলে তৈরি হওয়া সুযোগে বল পৌঁছে যায় ভিনিসিয়ুসের কাছে। কাছ থেকে সহজ শটে দলকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এই গোলের মাধ্যমে ভিনিসিয়ুসও গড়েন অনন্য রেকর্ড। ব্রাজিলের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। এর আগে এমন সাফল্য পেয়েছিলেন রোনালদো ও রিভালদো।
২২ মিনিটে আবারও জালের দেখা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় ফাউল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে কুনিয়ার জন্য সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসেনি।
তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান ভিনিসিয়ুস। ব্রুনো গিমারায়েসের দূরপাল্লার শট গোলকিপার ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে দ্রুত এগিয়ে এসে হেডে বল জালে পাঠান তিনি। ২-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে সেলেসাওরা। ৫১ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও অ্যাঙ্গাস গানের বাধায় সফল হতে পারেননি ভিনিসিয়ুস।
৬০ মিনিটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন মাথেউস কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাকে বল বাড়িয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস, আর সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি কুনিয়া।
স্কটল্যান্ডও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে স্কট ম্যাকটমিনে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান কিছুটা কমতে পারত।
ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আরেকটি সুখবর আসে ৭৬ মিনিটে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন নেইমার জুনিয়র। শেষ দিকে একটি শটও নিয়েছিলেন তিনি, তবে গোলকিপার গানের জন্য সেটি সামলানো কঠিন ছিল না।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। দাপুটে এই জয়ে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল ব্রাজিল।
মনোয়ারুল হক/
