স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৫ জুন) : বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) চলমান উন্নয়ন অগ্রগতি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পরিধি আরও বিস্তৃত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ থিম্যাটিক অনুষ্ঠানে গতকাল এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সেখানে ঐতিহাসিক ‘দোহা কর্মসূচি’ (ডিপিওএ) বাস্তবায়নের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থান তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সংকটগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব, ক্রমবর্ধমান ঋণ সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাহীনতা অনেক স্বল্পোন্নত দেশের কষ্টার্জিত উন্নয়নকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানের এই বহুমুখী ও জটিল চ্যালেঞ্জগুলো সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও জোরালো, সমন্বিত ও কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
এ সময় এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রসঙ্গ ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি এলডিসি থেকে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণের স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধি করার পক্ষে বাংলাদেশের যৌক্তিক অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। সেই সঙ্গে কোনো দেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার আগের প্রস্তুতি পর্বে, উত্তরণকালীন সময়ে এবং চূড়ান্ত উত্তরণের পরবর্তী ধাপে যাতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে যে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা সম্মেলনটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। এলডিসি এবং উত্তরণশীল দেশগুলোর ভাগ্য উন্নয়নে বিশ্বনেতাদের দেওয়া পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান ফলাফল অর্জনে এই সম্মেলন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মনোয়ারুল হক/
