পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাস উদ্ধার, ২৩ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজবাড়ী), এবিসিনিউজবিডি, (২৬ মার্চ) : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরি থেকে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি ৬ ঘণ্টা পর উপরে ওঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, চারজন পুরুষ ও আটটি শিশু রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয়:
১) রেহেনা আক্তার (৬১), স্বামীর নাম মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, গ্রাম- ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা।
২) মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামীর নাম মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, গ্রাম- মজমপুর, ওয়ার্ড-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা।
৩) রাজীব বিশ্বাস (২৮), বাবার নাম হিমাংশু বিশ্বাস, গ্রাম- খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর।
৪) জহুরা অন্তি (২৭), বাবার নাম মৃত ডা. আবদুল আলীম, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৫) কাজী সাইফ (৩০), বাবার নাম কাজী মুকুল, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৬) মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামীর নাম রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।
৭) ইস্রাফিল (৩), বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম- ধুশুন্দু, সমাজপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।
৮) সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), বাবার নাম রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।
৯) ফাইজ শাহানূর (১১), বাবার নাম বিল্লাল হোসেন, গ্রাম- ভবানীপুর, বোয়ালিয়া, কালুখালী।
১০) তাজবিদ (৭), বাবার নাম কেবিএম মুসাব্বির, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
১১) আরমান খান (৩১), বাবার নাম আরব খান, গ্রাম- পশ্চিম খালখোলা, বালিয়াকান্দি (বাস চালক)।
১২) নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), স্বামীর নাম আব্দুল আজিজ, গ্রাম- বেলগাছি, মদেন্দ্রপুর, কালুখালী।
১৩) লিমা আক্তার (২৬), বাবার নাম সোবাহান মন্ডল, গ্রাম- রামচন্দ্রপুর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।
১৪) জোস্ন্যা (৩৫), স্বামীর নাম মান্নান মন্ডল, গ্রাম- বড় চর বেনিনগর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।
১৫) মুক্তা খানম (৩৮), স্বামীর নাম মৃত জাহাঙ্গীর আলম, গ্রাম- নোয়াধা, আমতলী, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
১৬) নাছিমা (৪০), স্বামীর নাম মৃত নূর ইসলাম, গ্রাম- মথুয়ারাই, পলাশবাড়ী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
১৭) আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামীর নাম নুরুজ্জামান, গ্রাম- বাগধুনিয়া পালপাড়া, আশুলিয়া, ঢাকা।
১৮) সোহা আক্তার (১১), বাবার নাম সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
১৯) আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন রিপন, গ্রাম- সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।
২০) আরমান (৭ মাস), বাবার নাম নুরুজ্জামান, গ্রাম- খন্দকবাড়িয়া, কাচেরকোল, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
২১) আব্দুর রহমান (৬), বাবার নাম আব্দুল আজিজ, গ্রাম- মহেন্দ্রপুর, রতনদিয়া, কালুখালী।
২২) সাবিত হাসান (৮), বাবার নাম শরিফুল ইসলাম, গ্রাম- আগমারাই, দাদশি, রাজবাড়ী সদর।
২৩) আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), বাবার নাম ইসমাইল হোসেন খান, গ্রাম- ভবানীপুর, রাজবাড়ী সদর।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থল। নিখোঁজদের খোঁজে এখনও অনেক পরিবার ছুটে বেড়াচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সৌহাদ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন।
তদন্ত কমিটি গঠন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এই দুটি কমিটি গঠন করেছে।
একটি তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে। অন্য কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুটি কমিটিকেই তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সে জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মনোয়ারুল হক/
