দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি লেনদেন বাড়ল ৩৭ শতাংশের বেশি

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৪ অক্টোবর): সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি চলতি বছরের প্রথম আট মাসের এই লেনদেন গত পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। অথচ আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ছাড়িয়ে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারকে ‘ফ্রন্টিয়ার মার্কেট’ থেকে ‘এমার্জিং মার্কেট’-এ উন্নীত করার জোর প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সেটেলমেন্ট সময় কমিয়ে আনার মতো উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানান, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো একক কারণ নেই; বরং বাজারকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রক্রিয়া, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার জটিলতা সম্প্রতি কমানো হয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে এনআইটিএ হিসাব মেলাতে হতো, যা ডিএসইর হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ করে দেয়। এখন লেনদেনের সময় আলাদা হিসাব না করে শুধু অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে কিছু ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক ধারাটি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকায় উন্নীত হয়। এরপর মার্চে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে তা নেমে আসে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায়।

তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উল্লম্ফন ঘটে এবং তা দাঁড়ায় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকায়, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরবর্তী মাসগুলোতেও এই গতি বজায় ছিল; জুনে লেনদেন হয় ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা, জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং আগস্টে কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকা হয়।

তুলনামূলকভাবে, গত ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছর জানুয়ারিতে ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা লেনদেন হয়। মার্চে তা কমে ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকায় দাঁড়ালেও এপ্রিল ও মে মাসে তা বাড়ে—যেখানে এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা লেনদেন হয়, যা ছিল ওই বছরের প্রথম আট মাসের সর্বোচ্চ। এরপর জুনে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা, জুলাইয়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকা এবং আগস্টে ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। অথচ চলতি বছরের মাত্র প্রথম আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশের সমান।

সূত্র: বাসস

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ