বস্তি থেকে মুম্বাইয়ের দুই বাড়ির মালিক বলিউড অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা
বিনোদন ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৬ আগস্ট) : নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মুসাফির ক্যাফে’র সুবাদে বর্তমানে দর্শকমহলে দারুণ আলোচনায় রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। ক্যারিয়ারে দারুণ সময় কাটালেও তার পেছনের জীবনটি ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে পিতৃহীন হয়ে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে ২৬ বছর বয়সেই মুম্বাইয়ে দুটি বিলাসবহুল বাড়ির মালকিন।
মহিমা জানান, অভিনয় পেশাটি তার নিজের শৈশবের কোনো স্বপ্ন ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলের অর্ধেক সময় ক্লাস করে বাসে চড়ে নিয়মিত অডিশন দিতে ছুটতেন তিনি। কাজের সূত্রে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরলেও মা তাকে সবসময় মানসিকভাবে সাহস জুগিয়ে বলতেন। মায়ের ইচ্ছার কথাই স্মরণ করে মহিমা বলেন, ‘আমার মা সবসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। চরম অভাবের দিনগুলোতে মা আমাকে বলেছিলেন—এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি নিজের একটি বাড়ি দেখতে চান। মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করাই পরবর্তীতে আমার জীবনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’
শৈশবে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় অনেক কটূকথা ও অপমান সহ্য করতে হয়েছে মহিমাকে। মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’ নাটকের শুটিং সেটে এক পরিচালক তাকে তিরস্কার করে বলেছিলেন, ‘যদি অভিনয় করতেই না জানো, তবে এখানে আসার দরকার কী ছিল?’ তবে সেই অপমানকেই তিনি নিজের সাফল্যের হাতিয়ারে পরিণত করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ধারাবাহিকটি অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পর, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কিনেছিলেন মহিমা।
ছোটপর্দায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও বড়পর্দায় কাজের রাস্তাটি তার জন্য মোটেই সহজ ছিল না। বারবার সিনেমা থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি তাকে ‘টেলিভিশনের অভিনেত্রী’ হিসেবেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। তবে সব বাধা পেরিয়ে ২০২১ সালে সুপারস্টার সালমান খানের বিপরীতে ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
নিজের সেই সংগ্রামের দিনগুলো স্মরণ করে মহিমা বলেন, ‘অন্তিম সিনেমা মুক্তির পর হঠাৎ করেই চারপাশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যেতে শুরু করে। সবাই তখন আমার বন্ধু হতে চেয়েছিল। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে আমার এক দশকেরও অধিক সময়ের কঠোর পরিশ্রম ও না বলা কষ্ট।’
তেলুগু সিনেমা, জনপ্রিয় ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ এবং সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত নেটফ্লিক্সের হিট ওয়েব ফিল্ম ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে অসাধারণ অভিনয়ের সুবাদে মাত্র ২৬ বছর বয়সেই বিনোদন অঙ্গনে নিজের দুই দশকের ক্যারিয়ারের সফলতা উদ্যাপন করছেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী।
মনোয়ারুল হক/
