হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৪ আগস্ট) : দুই বছর আগে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং ৫ আগস্টের দিনটিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশের মুক্তিকামী মানুষের দেওয়া হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যায়নি। স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের জন্য এই দিনটি আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার একটি অনন্য মাইলফলক।
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। গুম, খুন, হামলা ও গায়েবি মামলার পাশাপাশি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও বছরের পর বছর কারাবাস করতে হয়েছে। জনগণের কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করতে শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে অগণিত মানুষকে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে বিএনপির তৎকালীন নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অনেকেই আজও নিখোঁজ রয়েছেন।
তারেক রহমান আরও জানান, বিগত স্বৈরাচারী আমলে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছিল। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। তবে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে শেষরক্ষা হয়নি। গণ-অভ্যুত্থান দমনে হেলকপ্টার থেকে গুলি চালানো এবং নিষ্পাপ শিশুকে পর্যন্ত হত্যা করার মতো নির্মমতা চালালেও স্বৈরাচার টিকতে পারেনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে অঙ্গহানি ও চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।
৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানের গণভবন ছাড়াসহ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দোসরদের পলায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।
বাণীর শেষে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদের স্থান হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও মৌলিক প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য সর্বদা অটুট থাকবে।
মনোয়ারুল হক/
