উত্তাল দিল্লির রাজনীতি: বিরোধীদের কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২২ জুলাই) : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের নাটকীয় ধর্না কর্মসূচির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনীতি।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সংসদ ভবনের সামনে কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা।

সরকারবিরোধী ক্ষোভের অংশ হিসেবে কালো পোশাক পরিধান করে বিক্ষোভে শামিল হন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা। এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের পাশাপাশি হাত মেলায় বিরোধী জোটের অন্য দলগুলোর সদস্যরাও। রাজপথের এ জোরালো বিক্ষোভ থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের জোর দাবি জানানো হয়।

সমাজবাদী পার্টির (এসপি) এমপিরাও বিরোধীদের এই প্রতিবাদের সমর্থনে কালো স্কার্ফ পরে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের ধর্নায় এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবও উপস্থিত ছিলেন এবং কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে তাকেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল।

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং সোমবার দিল্লিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো।

সংসদ ভবনের ফটকে জড়ো হয়ে বিরোধী নেতারা সরকার ও পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তবে বুধবার তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।.

কংগ্রেস এমপি পবন খেরা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আগে পদত্যাগ করতে হবে, তারপর আলোচনা হবে। এত শিক্ষার্থীর ওপর লাঠিচার্জের পর এখন কিসের আলোচনা? ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’

এনডিটিভি জানায়, বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী সংসদের দুই কক্ষেই আলোচনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সরকার। সব দলের নেতাদের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকের পরই মূলত কোনো বিধির অধীনে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে তা চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলেন এবং নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি সরকারে সামনে পাঁচটি শর্ত তুলে ধরেন, যার মধ্যে শাহ ও প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার দাবি রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পাল্টা জবাবে রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেছে। শাসক দলটি অভিযোগ করেছে যে, রাহুল গান্ধী নিজের রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ‘অস্ত্র বা হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধর্না কর্মসূচির প্রতিবাদে দেশজুড়ে কংগ্রেস কার্যালয়গুলোর সামনে বিক্ষোভ মিছিলের পরিকল্পনা করছে বিজেপি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ