হরমুজে উত্তাপ: মার্কিন জাহাজে হামলার পর অন্যদেরও সতর্ক করে দিল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৬ সেপ্টেম্বর): মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ওয়াশিংটন তিনটি ইরানি তেল ট্যাংকারে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলসহ তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জাহাজে আঘাত হানার উপযুক্ত জবাব হিসেবে আরও বড় এবং বহুমুখী হামলা চালানো হবে।
এই হুঁশিয়ারির পর থেমে থাকেনি তেহরানও। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মার্কিন তিনটি ট্যাংকার এবং আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি জলযান সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর উদ্দেশে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্ররোচনায় কেউ যেন পা না বাড়ায়। নির্ধারিত ও অনুমোদিত জলপথ ব্যবহার না করলে কিংবা সামান্য সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেলে যেকোনো দেশের জাহাজে আক্রমণ চালানো হতে পারে। তবে সৌভাগ্যবশত উভয় পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হয়। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে তেহরান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ করে দিয়ে শুল্ক আদায়ের কৌশলও নিয়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে পঙ্গু করে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাত থামানোর চেষ্টা চালালেও হরমুজ প্রণালির এই নতুন উত্তাপ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
মনোয়ারুল হক/
