নতুন দায়িত্বে যুক্ত হলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২ জুলাই) : জাতীয় ঔষধনীতিতে আরও গতিশীলতা আনা এবং দেশের সামগ্রিক ঔষধ খাতের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের ‘জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ’ পুনর্গঠন করেছে সরকার।
পুনর্গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকবেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব। নতুন এই পরিষদে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের।
এর আগে গত ২১ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে ২২ সদস্যের একটি ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত মোতাবেক পূর্বের সেই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে ২৪ সদস্যের এই নতুন কমিটি গঠন করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিষদ বছরে অন্তত দু’বার বৈঠকে বসবে। তবে দেশের বিশেষ প্রয়োজনে যেকোনো সময় অতিরিক্ত সভা আহ্বান এবং প্রয়োজনে এই কমিটিতে নতুন বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রভাবশালী পরিষদে সদস্য হিসেবে আরও থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, অর্থ সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিবসহ খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়ী খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঔষধ প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদ্বয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদ্বয়, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান। এছাড়া ব্যবসায়ী সমাজ ও ঔষধ শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করতে থাকছেন এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিরা।
পুনর্গঠিত এই জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ মূলক সরকারকে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়নে পথ দেখাবে। এছাড়া দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশ, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনা করে ঔষধের উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা এবং প্রতি দুই বছর পর পর অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে এই পরিষদ। একই সঙ্গে ঔষধ ও এর কাঁচামাল আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং যেকোনো জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এই কমিটি।
মনোয়ারুল হক/
