সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে আশুরার মহান শিক্ষাকে ধারণ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৬ জুন) : ইসলামের সুমহান আদর্শে বিভেদ, হানাহানি কিংবা পারস্পরিক বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পবিত্র আশুরার শাশ্বত শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ জুন) পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের মূল ভিত্তিই হলো শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণ—পবিত্র আশুরা আমাদের বারবার সেই সত্যেরই স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে নিজেদের উৎসর্গ করারও তাগিদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহরমের ১০ তারিখ তথা পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি কেবলই বাহ্যিক শোক বা স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর গভীরে লুকিয়ে আছে সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও নৈতিক দৃঢ়তার এক চিরন্তন শিক্ষা। কারবালার ঐতিহাসিক প্রান্তরে ঘটে যাওয়া মর্মন্তুদ অধ্যায়টি যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার প্রেরণা জুগিয়ে আসছে।

মানবীয় মর্যাদা ও আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে শাহাদতের অমিয় সুধা পান করেছিলেন। তাঁদের এই অনন্য আত্মত্যাগ কারবালাকে আজ বিশ্বজুড়ে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে, যা আজও মানবজাতির জন্য এক আলোকবর্তিকা।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়া তাঁর পরিবারের সকল সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ