মাগুরায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা, বাড়ছে ধোঁয়াশা
নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (২৫ জুন) : মাগুরার শ্রীপুরে এক নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নহাটা গ্রাম থেকে মরিয়ম (২০) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। নিহত মরিয়ম নহাটা গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে রবিউল ইসলামের স্ত্রী এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামের মেয়ে। মাত্র ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বড় ভাইয়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ধরনের দেনা-পাওনা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরিয়মকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিল। তাদের এই তীব্র মানসিক নির্যাতনের কারণেই মরিয়ম মৃত্যুর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মরিয়মের ভাসুর মোঃ সামিউল আমিন। তিনি জানান, সকালে বাজারের দোকানে থাকাকালীন তিনি খবর পান যে তার ছোট ভাইয়ের বউ সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে সকালে মরিয়মের সাথে তার স্বাভাবিক কথাও হয়েছিল। সামিউল বলেন, “মরিয়ম আমাকে জানিয়েছিল সে রোজা রাখার জন্য রাতে সেহেরি খেলেও শরীর খারাপ লাগায় পরে রোজা ভেঙে ফেলে। এরপর আমি বাজারে চলে যাই। তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা অশান্তি ছিল না।”
স্থানীয়রা দ্রুত ঘরের সিলিং ভেঙে মরিয়মকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুহান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার অন্তত ২০ মিনিট আগেই মরিয়মের মৃত্যু হয়েছিল।
এই রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওলি মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মনোয়ারুল হক/
