শ্রীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (১৫ জুন) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তার দাবি, শ্রীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ও বিতর্কিত সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মোল্যা এবং তার সহযোগী একটি কুচক্রী মহল তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও বিভ্রান্ত করতে এই পথ বেছে নিয়েছে। তবে এই ধরণের অপপ্রচারের মুখেও একজন দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকদের প্রকৃত সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত রবিবার কথিত সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মোল্যা সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের অজুহাতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের সাথে উসকানিমূলক আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পরবর্তীতে তিনি গোপনে ধারণ করা একটি আংশিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে স্থানীয়ভাবে নানা বিভ্রান্তি ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করছেন— কেন তিনি অফিস সময়ে হাসপাতালের সরকারি চালক ও গাড়ি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে হাসপাতাল ত্যাগ করছেন?

এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্নের বিপরীতে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন গণমাধ্যমের কাছে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসকদের অফিস সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অথচ ওই সাংবাদিক নিজেই ভিডিওতে উল্লেখ করেছেন যে ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে, যা সম্পূর্ণভাবে অফিস সময় পার হওয়ার পর। যে গাড়িটির কথা বলা হচ্ছে সেটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নয়। এছাড়া চালকও কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন; তিনি মূলত একটি প্রজেক্টের অধীনে নিয়োজিত ছিলেন, যার মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। মানবিক কারণে এবং তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তাকে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে।

ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে আসা এবং সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ায় একটি মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ। কিন্তু আব্দুর রশিদ মোল্যার মতো কিছু নামধারী ব্যক্তি এই মহান পেশাকে কলুষিত করছে। তারা বিভিন্ন নামে অনলাইন পেজ খুলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, যা আমাকে চরম যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। আমি প্রকৃত সাংবাদিকদের অনুরোধ করব— আপনারা মাঠে এসে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করুন এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করুন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ