এবার মিসরের বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ফের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ জুলাই) : মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস ট্যাংকারে রহস্যজনক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বুধবার ঘটা এই হামলার পরপরই ওই ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। যদিও মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বন্দরে আগুন লাগার বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে বিবৃতিতে ড্রোন হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো উল্লেখ ছিল না। এ ঘটনার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বন্দরে আগুন লাগার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের বিবৃতিতে ড্রোন হামলার কোনো উল্লেখ ছিল না। এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে।

এই উত্তেজনার রেশ ধরে বুধবার রাতেই ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় শেষ হওয়া এই দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের পূর্বের সব আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

এরই মধ্যে জর্ডানস্থ মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার কথা স্বীকার করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের একটি প্রস্তাবও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বর্তমানে ওই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের চাহ-তাঙ্গু এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হরমুজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ নাফিসি জানিয়েছেন যে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। তবে বেসামরিক এলাকায় হামলার এসব ইরানি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও বরাবরের মতো দাবি করেছে যে তারা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বল্পস্থায়ী অভিযানের কথা বললেও, জুনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বর্তমান সর্বাত্মক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ