সিলেটের পর্যটন ও চা শিল্পে অধিকতর বিনিয়োগের আহবান রাষ্ট্রপতির

সিলেট প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (১৬ সেপ্টেম্বর): সিলেটের অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন, চা, মৎস্য এবং শিল্প খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটের পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা বাগান, বন এবং হাওরের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদে ভরপুর অঞ্চলটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন মাঠে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং যাদের সক্ষমতা রয়েছে, তারা যদি দেশের এই খাতগুলোতে এগিয়ে আসেন, তবে সিলেটের পর্যটন শিল্প আরও বহুগুণ সমৃদ্ধ হবে।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখানকার চা বাগান কেবল দেশেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে, যার সুবাদে সিলেট অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে।

হাওর অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের হাওরগুলোতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের দারুণ সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানকার মাটিতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান কাজে লাগিয়ে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে তোলার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি, কৃষি, চা শিল্প, পর্যটন এবং গ্যাস খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ উপায়ে কাজে লাগানোর জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

সম্প্রতি পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, হাই কমিশনার কদিন আগেই সিলেট সফর করেছেন এবং এখান থেকে চা আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি সুচারুভাবে সমন্বয় করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় অর্থনীতিতে সিলেটের প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু সিলেট নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে।

বর্তমান সময়ের মূল চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের প্রধান লড়াই হলো রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাস উপযোগী নিরাপদ আবাসভূমি নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অভিন্ন ও সাধারণ বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য ভুলে এক প্ল্যাটফর্মে এসে সবাইকে একসাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। আর এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ও শক্তির জায়গা।

সিলেটবাসীর প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতেও তিনি সিলেটের মানুষের পাশে ছিলেন এবং আগামী দিনগুলোতেও তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনীও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ