ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৬ সেপ্টেম্বর): সৌদি আরবের আকাশে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এবার পবিত্র মক্কা নগরীতেও বিমান হামলার সতর্কতা এবং সাইরেন বাজানো হয়েছে। সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তায় এমন ঘটনা এটিই প্রথম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানায়, পবিত্র মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফসহ পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে কিছু সময়ের জন্য এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিপদ কেটে যাওয়ায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, মক্কায় বর্তমানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনীয় জটলা বা ভিড় এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘হায়োম’-এর সূত্র অনুযায়ী, এই জরুরি সতর্কতার প্রভাব পড়ে বিমান চলাচলেও। এর জেরে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখতে হয়। এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বৈধ সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনী ইয়েমেনের তায়েজ শহরের আশপাশে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছিল।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মাত্রা বহুলাংশে বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে চালানো এসব ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং দেশটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি গত সোমবার পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় আটজন সরকারি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে চরম আকার ধারণ করায় এই সংঘাত এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী কর্মকর্তা হাজেম আল-আসাদ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সৌদি আরব যতদিন তাদের জনগণের ওপর সামরিক আগ্রাসন বজায় রাখবে, ততদিন ইয়েমেনিদের পক্ষ থেকেও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, এই চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির মতে, সংঘাতের ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মানদাব প্রণালী’ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা গোটা বিশ্বের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের প্রধান বাণিজ্য রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুথি বিদ্রোহীদের জোরালোভাবে মোকাবিলা করতে সৌদি আরবের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। সূত্র: এনডিটিভি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ