জাপানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮, বাড়ছে দুর্ভোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ জুলাই) : দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ সংযোগ ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পের সময় একটি শপিং সেন্টারের একাংশ ধসে পড়ার পর বেশ কয়েকজন মানুষের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর শপিং সেন্টারটিতে একটি বিকট বিস্ফোরণও ঘটে।
ভূমিকম্পের ফলে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ সংযোগ ধসে পড়েছে এবং ৩০ হাজারেরও বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। তবে বর্তমানে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র দাবদাহ। আগামী কয়েক দিনে কুমামোতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশ্রিতদের শরীর ঠান্ডা রাখা ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের পাশাপাশি হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি কুমামোতোতে ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে ১৫০টি সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে।
মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি অনুকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন করে আবার ঝাঁকুনির ভয়ে অনেক মানুষ এখনো রাতে নিজের গাড়ির ভেতরে ঘুমাচ্ছেন। উদ্ধারকাজে হাজার হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর একটি ছিল কাশিমা অঞ্চলের ইয়ন শপিং সেন্টার, যার দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চলছে।
ভূমিকম্পের ঘণ্টাখানেক পর মলটিতে একটি বিস্ফোরণও ঘটে, যা গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে বলে এর মালিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জানিয়েছেন। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এর মাঝে একটি স্বস্তির খবরও রয়েছে; ধসে পড়া শপিং সেন্টারের একটি ক্যাট ক্যাফেতে আটকে থাকা ২৫টি বিড়ালকে বুধবার অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত মাসেই নতুন রূপ দিয়ে চালু হওয়া এই শপিং সেন্টারটি এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলের শক্তিশালী ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সে সময় ওই অঞ্চলে ২৭৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
অন্যদিকে, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি আংশিক ধসে পড়া নিপ্পন পেপার কারখানাতেও উদ্ধার অভিযান চলছে, যেখানে অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কারখানাটির ভেতরে ১১ জন আটকা পড়েছিলেন, যাদের মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই শক্তিশালী ভূকম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ইয়াতসুশিরো শহরের ৭৫ বছর বয়সী এক রেস্তোরাঁ মালিক হিরোকো ওগাতা জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, জীবনে কখনো তিনি এত বড় ভূমিকম্পের মুখোমুখি হননি এবং সে সময় তার মনে হয়েছিল তিনি আর বাঁচবেন না।
মনোয়ারুল হক/
