বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১২ জুলাই) : টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যার থাবায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের স্বাভাবিক পথচলা। বৈরী আবহাওয়া আর চারপাশের জলজটের কারণে পণ্য ওঠানামা, খালাস এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র ধীরগতি।
এর ফলে দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ লাইনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভেতরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে পানি জমে যাওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চাকাও মন্থর হয়ে পড়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্যার কারণে বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমদানিকারকরা সময়মতো কাঁচামাল পাচ্ছেন না, আবার রপ্তানিকারকেরাও পণ্য পাঠাতে পারছেন না। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণত বন্দরে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হলেও, গত ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দুর্যোগের দিনগুলোতে তা নেমে এসেছে মাত্র গড়ে আড়াই হাজারে।
ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টদের আশঙ্কা, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জাহাজের ওয়েটিং টাইম (অপেক্ষমাণ সময়) এবং পরিবহন খরচ দুই-ই আকাশচুম্বী হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, বন্যার কারণে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন; বন্দর ও অফডকগুলোর (ডিপো) স্থবিরতায় রপ্তানি পণ্য জাহাজে তোলা যায়নি।
যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপদকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে কাজ চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম আশ্বস্ত করেছেন যে, দুর্যোগ কেটে গেলে আটকে থাকা কনটেইনারগুলো দ্রুত ডেলিভারি দেওয়া হবে।
বর্তমানে বন্দর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত থাকায় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল এখনও পুরোপুরি গতি পায়নি।
মনোয়ারুল হক/
